ঢাকা, ৫ আগস্ট ২০২৫:
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ভিডিও বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাতির প্রতি এক ঐতিহাসিক আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "আজ শুধু স্মরণের দিন নয়, আজ প্রতিজ্ঞার দিন। আমরা শপথ নিই—নিপীড়নের সামনে মাথা নোয়াব না। আমরা গড়বো এমন একটি রাষ্ট্র—যেখানে থাকবে জবাবদিহিতা, মানবিক মূল্যবোধ, গণতন্ত্র এবং বৈষম্যহীনতা।"
প্রধান উপদেষ্টার ভাষ্য মতে, দেশের তরুণ সমাজ দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে হতাশা ও বৈষম্যের শিকার হয়েছে। চাকরির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক আনুগত্য, ঘুষ, স্বজনপ্রীতি, এমনকি মাফিয়াচক্রের প্রভাবেই গড়ে উঠেছে একটি ‘সুবিধাভোগী শ্রেণি’। দুর্নীতির এই চক্র ভেঙে নতুন এক বাংলাদেশ গড়ার ডাক দিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, “এই রাষ্ট্র শুধু কাগজে স্বাধীন নয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল মানবিক মর্যাদা, সাম্য ও ন্যায়বিচার—কিন্তু তা আজো বাস্তবায়িত হয়নি। আমাদের তরুণেরা এখন নতুন রূপে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, যারা ঘুষ দিতে পারেনি, তারাই চাকরি পায়নি। ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা তার স্বরূপ আজ উন্মোচিত।”
তিনি আরও বলেন, "২০২৪ সালের জুলাই ছিল নতুন এক গণজাগরণের সূচনা। দেশের ছাত্রসমাজ, তরুণ প্রজন্ম, সাধারণ জনগণ একত্রিত হয়ে বলেছে—'এবার ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান চাই।' এই ঐক্য, এই আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যাবে না।"
প্রধান উপদেষ্টা জানান, জুলাই শহীদদের স্মরণে সরকার ইতিমধ্যে ৭৭৫টি পরিবারকে ৯৮ কোটি ৪০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র দিয়েছে। আহত ১৩,৮০০ জনকে তিন শ্রেণিতে চিহ্নিত করে ১৫৩ কোটি ৪ লাখ টাকা অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত ৭৮ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হয়েছে এবং চিকিৎসার ব্যয় বাবদ দেওয়া হয়েছে ৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
তিনি বলেন, “জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধারা ছিলেন এই দেশের নতুন ইতিহাসের রচয়িতা। তাদের আত্মত্যাগ তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন আমরা এক জনকল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবো।”
“তাদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। তাদের স্বপ্নই হবে আগামী বাংলাদেশের ভিত্তি।” —প্রফেসর ইউনূস